কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষিকা ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তুহিন (১৮) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে কোটবাড়ী এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক তুহিন সানন্দা এলাকার নুরুল আলমের ছেলে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে কোটবাড়ীর ভাড়া বাসা থেকে বন্ধুদের সাথে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোনটি নিয়ে বের হয় অপ্রতিম। সে কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। এরপর থেকে সে নিখোঁজ থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও পুলিশ উদ্ধারে অভিযানে নামে।
পরদিন শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিমকে মাথায় ক্যাপ পরা বয়সে কিছুটা বড় এক কিশোরের সাথে ঘুরতে দেখা যায়। উপাচার্য এম এম শরীফুল করীম জানান, ফুটেজে ওই কিশোরের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিষয়টি সাথে সাথেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়।
পরবর্তীতে শনিবার বেলা ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামে লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার পর গভীর শোক প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, “আমাদের সন্তানের লাশ কতটা ভারী, তা প্রকাশ করার মতো ভাষা আমার জানা নেই।”
কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, তদন্তের স্বার্থে সন্দেহভাজন হিসেবে তুহিনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নিখোঁজ হওয়া আইফোনটি এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মোবাইল ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য ও জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

